ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মধুখালীতে কলেজ খোলা, কিন্তু শিক্ষক শূন্য শ্রেণিকক্ষ! মেগচামী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ইউএনও’র মধুখালীর গোন্দারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত মধুখালীর ‘কবিতা ক্লিনিক’-এ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ: মালিককে ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা মধুখালীতে উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি ও আলিম পরীক্ষায় পাশের হার ৩৫.১৫%, দুই প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ মধুখালীতে উপজেলা যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: বৃক্ষরোপণ,খাবার বিতরণ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি ফরিদপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে অগ্নিকান্ডে ৭টি পাটের গুদাম ভষ্মিভূত, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় দুই কোটি টাকা বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে দিলো না সন্তান! যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার দাফন নিয়ে ভাইবোনদের বিরোধ মধুখালীতে পানির গর্তে পড়ে ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় অবসর ভাতার পরিকল্পনা করছে সরকার – মধুখালীতে হুইপ রুহুল কুদ্দুস দুলু এমপি

মেটাকে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০৯ Time View

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন (৫৬ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত। এর আগের জরিমানাসহ মামলাটিতে বিচারক ব্রায়ান বিডশেইডের নির্দেশে মেটার মোট অর্থদণ্ডের পরিমাণ দাঁড়াল ৯৪২ মিলিয়ন (৯৪ কোটি ২০ লাখ) ডলারে, যা শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরোপিত সর্বোচ্চ আর্থিক দণ্ড।

রায়ে আদালত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটাকে পরিবেশ দূষণকারী কারখানার সাথে তুলনা করে একটি জনউপদ্রব হিসেবে অভিহিত করেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া যেমন সাধারণ মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের বাতাস দূষিত করে, ঠিক তেমনি মেটার প্ল্যাটফর্মের কারণে শিশুদের যে মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণের শিকার হতে হয়, তা শুধু অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকে না।

এটি পরিবার, স্কুল ও সমাজজুড়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই ক্ষতি সামাল দিতে জরিমানার সিংহভাগ অর্থ দিয়ে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত, যা ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা, মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা এবং শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণে ব্যয় করা হবে।

২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে দায়ের করা এই মামলায় মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানটি তাদের রিকমেন্ডেশন অ্যালগরিদমের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও যৌন নিপীড়কদের দিকে ধাবিত করেছে। আদালতের দ্বিতীয় ধাপের এই নির্দেশে জরিমানার পাশাপাশি ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় মেটাকে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপে বাধ্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সরাসরি বার্তা আদান-প্রদান সম্পূর্ণ বন্ধ করা, রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা এবং স্কুল চলাকালীন সময়ে পুশ নোটিফিকেশন নিষিদ্ধ করা, পোস্টের লাইক সংখ্যা গোপন রাখা এবং মাসিক সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টা ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা।

তবে আদালতের এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান মেটা। তাদের দাবি, কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং এই রায়ে প্রকৃত তথ্য প্রতিফলিত হয়নি। নিউ মেক্সিকোর এই ঐতিহাসিক রায়ের পর আগামী সপ্তাহেই ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও প্রায় তিন ডজন মার্কিন অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা শিশু গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের মামলায় নতুন বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টেক জায়ান্টটি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

মধুখালীতে কলেজ খোলা, কিন্তু শিক্ষক শূন্য শ্রেণিকক্ষ! মেগচামী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ইউএনও’র

মেটাকে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

Update Time : ০২:২১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন (৫৬ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত। এর আগের জরিমানাসহ মামলাটিতে বিচারক ব্রায়ান বিডশেইডের নির্দেশে মেটার মোট অর্থদণ্ডের পরিমাণ দাঁড়াল ৯৪২ মিলিয়ন (৯৪ কোটি ২০ লাখ) ডলারে, যা শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরোপিত সর্বোচ্চ আর্থিক দণ্ড।

রায়ে আদালত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটাকে পরিবেশ দূষণকারী কারখানার সাথে তুলনা করে একটি জনউপদ্রব হিসেবে অভিহিত করেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া যেমন সাধারণ মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের বাতাস দূষিত করে, ঠিক তেমনি মেটার প্ল্যাটফর্মের কারণে শিশুদের যে মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণের শিকার হতে হয়, তা শুধু অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকে না।

এটি পরিবার, স্কুল ও সমাজজুড়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই ক্ষতি সামাল দিতে জরিমানার সিংহভাগ অর্থ দিয়ে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত, যা ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা, মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা এবং শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণে ব্যয় করা হবে।

২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে দায়ের করা এই মামলায় মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানটি তাদের রিকমেন্ডেশন অ্যালগরিদমের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও যৌন নিপীড়কদের দিকে ধাবিত করেছে। আদালতের দ্বিতীয় ধাপের এই নির্দেশে জরিমানার পাশাপাশি ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় মেটাকে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপে বাধ্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সরাসরি বার্তা আদান-প্রদান সম্পূর্ণ বন্ধ করা, রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা এবং স্কুল চলাকালীন সময়ে পুশ নোটিফিকেশন নিষিদ্ধ করা, পোস্টের লাইক সংখ্যা গোপন রাখা এবং মাসিক সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টা ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা।

তবে আদালতের এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান মেটা। তাদের দাবি, কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং এই রায়ে প্রকৃত তথ্য প্রতিফলিত হয়নি। নিউ মেক্সিকোর এই ঐতিহাসিক রায়ের পর আগামী সপ্তাহেই ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও প্রায় তিন ডজন মার্কিন অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা শিশু গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের মামলায় নতুন বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টেক জায়ান্টটি।