ঢাকা ০২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৩ জনের মৃত্যু ১৪ বছর পর রায় ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড আ’লীগ নেতা ও সরকারী কর্মকর্তা মিলে ১২ লাখ টাকা গিলে খেলেন বোয়ালমারীতে অবৈধ ভাবে স্থাপনা নির্মাণ ও বরাদ্দ দিয়ে ১২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আইনজীবী হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত সদরপুরে হাতির আক্রমণে ১০ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু, মাহুত আটক চার বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে যা বললেন জেনিফার লোপেজ ঢাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রির সময় হঠাৎ দেয়াল ধসে নিহত ২ মধুখালীতে মৎস্য আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, অভিযানে নেতৃত্ব দিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফরিদপুর চিনিকলে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন পূবালী ব্যাংক পিএলসি মধুখালী শাখার আয়োজনে ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

বিদেশে চিকিৎসা কমাতে, চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা ফেরানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ৫২ Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী না হন, সে লক্ষ্যে চিকিৎসকদের আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। এই প্রবণতা কমাতে দেশের চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও শক্তিশালী করতে হবে। শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে’ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্নও সামনে আসছে। তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের দেশের বহু মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন চিকিৎসা করাতে। তার ফলে আমাদের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাও সেই সঙ্গে চলে যাচ্ছে। কেন আমরা এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে পারব না? কেন আমাদের চিকিৎসকদের ওপর মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করতে পারব না?”

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন কেবল আইন করে সম্ভব নয়। “এটি কোনো প্রতিষ্ঠান দিয়ে করা যাবে না। এটি সম্ভব হবে চিকিৎসকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে।” তিনি দেশের সব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি রোগীদের আস্থা অর্জনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ জাতি শুধু হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে না। পারিবারিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী হবেন, যারা পরিবারভিত্তিক প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন। পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগেরও ঘোষণা দেন তিনি।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করতে সরকার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কয়েকটি কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগামী পাঁচ বছরে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চিকিৎসকগণই সত্যিকার অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু। একজন চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার অনেক সময় ওষুধের মতোই কার্যকর হয়। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও একজন চিকিৎসকের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজকে দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন জাতীয় অধ্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঐতিহ্য ধরে রেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ভবিষ্যতে বিশ্বমানের গবেষণা, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ক্যাম্পাসে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৩ জনের মৃত্যু

বিদেশে চিকিৎসা কমাতে, চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা ফেরানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : ০৪:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী না হন, সে লক্ষ্যে চিকিৎসকদের আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। এই প্রবণতা কমাতে দেশের চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও শক্তিশালী করতে হবে। শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে’ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্নও সামনে আসছে। তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের দেশের বহু মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন চিকিৎসা করাতে। তার ফলে আমাদের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাও সেই সঙ্গে চলে যাচ্ছে। কেন আমরা এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে পারব না? কেন আমাদের চিকিৎসকদের ওপর মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করতে পারব না?”

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন কেবল আইন করে সম্ভব নয়। “এটি কোনো প্রতিষ্ঠান দিয়ে করা যাবে না। এটি সম্ভব হবে চিকিৎসকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে।” তিনি দেশের সব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি রোগীদের আস্থা অর্জনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ জাতি শুধু হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে না। পারিবারিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী হবেন, যারা পরিবারভিত্তিক প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন। পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগেরও ঘোষণা দেন তিনি।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করতে সরকার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কয়েকটি কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগামী পাঁচ বছরে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চিকিৎসকগণই সত্যিকার অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু। একজন চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার অনেক সময় ওষুধের মতোই কার্যকর হয়। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও একজন চিকিৎসকের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজকে দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন জাতীয় অধ্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঐতিহ্য ধরে রেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ভবিষ্যতে বিশ্বমানের গবেষণা, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ক্যাম্পাসে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।