ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৩ জনের মৃত্যু ১৪ বছর পর রায় ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড আ’লীগ নেতা ও সরকারী কর্মকর্তা মিলে ১২ লাখ টাকা গিলে খেলেন বোয়ালমারীতে অবৈধ ভাবে স্থাপনা নির্মাণ ও বরাদ্দ দিয়ে ১২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আইনজীবী হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত সদরপুরে হাতির আক্রমণে ১০ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু, মাহুত আটক চার বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে যা বললেন জেনিফার লোপেজ ঢাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রির সময় হঠাৎ দেয়াল ধসে নিহত ২ মধুখালীতে মৎস্য আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, অভিযানে নেতৃত্ব দিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফরিদপুর চিনিকলে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন পূবালী ব্যাংক পিএলসি মধুখালী শাখার আয়োজনে ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

নতুন রাষ্ট্রপতি কে, আলোচনায় বিএনপির যেসব নেতার নাম

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ১৭ Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকলেও দলের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও উঠে এসেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গুরুতর অসুস্থতা এবং বিভিন্ন রোগের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালনে নিজেকে অসমর্থ মনে করায় মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও দেশে ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

এরই মধ্যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে কয়েকজন নেতার নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। দলীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং বিভিন্ন মহলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাঁকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

একজন প্রভাবশালী মন্ত্রিপরিষদ সদস্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “একটি নামই আছে। আপাতত বিকল্প ভাবা হচ্ছে না। দলের আর বিকল্প নেই।”

মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। দলের বাইরে অরাজনৈতিক ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

তবে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো সরকার, বিএনপি বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। আলোচনায় থাকা নামগুলোর বিষয়ে রাজনৈতিক সূত্রগুলোও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে।

রাজনৈতিকভাবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। কারণ নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে কে আসছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পদত্যাগ না করলে তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৩ জনের মৃত্যু

নতুন রাষ্ট্রপতি কে, আলোচনায় বিএনপির যেসব নেতার নাম

Update Time : ০২:৩১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকলেও দলের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও উঠে এসেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গুরুতর অসুস্থতা এবং বিভিন্ন রোগের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালনে নিজেকে অসমর্থ মনে করায় মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও দেশে ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

এরই মধ্যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে কয়েকজন নেতার নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। দলীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং বিভিন্ন মহলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাঁকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

একজন প্রভাবশালী মন্ত্রিপরিষদ সদস্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “একটি নামই আছে। আপাতত বিকল্প ভাবা হচ্ছে না। দলের আর বিকল্প নেই।”

মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। দলের বাইরে অরাজনৈতিক ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

তবে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো সরকার, বিএনপি বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। আলোচনায় থাকা নামগুলোর বিষয়ে রাজনৈতিক সূত্রগুলোও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে।

রাজনৈতিকভাবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। কারণ নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে কে আসছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পদত্যাগ না করলে তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।