ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মধুখালীতে কলেজ খোলা, কিন্তু শিক্ষক শূন্য শ্রেণিকক্ষ! মেগচামী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ইউএনও’র মধুখালীর গোন্দারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত মধুখালীর ‘কবিতা ক্লিনিক’-এ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ: মালিককে ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা মধুখালীতে উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি ও আলিম পরীক্ষায় পাশের হার ৩৫.১৫%, দুই প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ মধুখালীতে উপজেলা যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: বৃক্ষরোপণ,খাবার বিতরণ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি ফরিদপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে অগ্নিকান্ডে ৭টি পাটের গুদাম ভষ্মিভূত, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় দুই কোটি টাকা বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে দিলো না সন্তান! যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার দাফন নিয়ে ভাইবোনদের বিরোধ মধুখালীতে পানির গর্তে পড়ে ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় অবসর ভাতার পরিকল্পনা করছে সরকার – মধুখালীতে হুইপ রুহুল কুদ্দুস দুলু এমপি

চিকিৎসা সেবায় মানবতার ছোঁয়া: হতদরিদ্র প্রসূতি মায়ের পাশে দাঁড়ালেন ডা. আলামিন সারোয়ার

গর্ভযন্ত্রণা আর চরম অসহায়ত্ব যখন একটি পরিবারের একমাত্র সম্বল, ঠিক তখনই মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে পাশে দাঁড়ালেন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলামিন সারোয়ার।

স্বামী পরিত্যক্তা এবং অসহায় এক প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশনসহ সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এই কর্মকর্তা।

​জানা গেছে, মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের মাঝিবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র এক তরুণী চুমকির জীবনে নেমে আসে গভীর অন্ধকার।

বিয়ের পর সুখের সংসার তো দূরের কথা, ৩-৪ মাস আগে গর্ভবতী অবস্থায় তাকে ফেলে পালিয়ে যায় স্বামী।
খোঁজ নেয়নি সন্তানের অনাগত ভবিষ্যতেরও। পরিবার বলতে রয়েছে কেবল এক অন্ধ মা। স্বামীহীন, পিতৃহীন এবং অন্ধ মায়ের এই অসহায় তরুণীর গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে এসে দেখা দেয় তীব্র জটিলতা। অর্থাভাবে যেখানে পেটে দু’মুঠো ভাত জোটা দায়, সেখানে উন্নত চিকিৎসা বা সিজারিয়ান অপারেশন তো দূরের কথা।

​অসহায় এই প্রসূতি ও তার অন্ধ মায়ের কান্নায় যখন চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, তখনই খবর পৌঁছায় মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলামিন সারোয়ারের কানে। সংবাদটি পাওয়া মাত্রই তিনি আর চুপ করে বসে থাকেননি। দ্রুত মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

​ডা. আলামিন সারোয়ার ওই অসহায় মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন ও যাবতীয় চিকিৎসাসামগ্রীসহ সকল খরচের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। তার এই সময়োপযোগী ও মহৎ উদ্যোগে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন অসহায় ওই প্রসূতি ও তার অন্ধ মা।
আজ ১০ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রসূতি মায়ের সিজার সিজার হয়।
তার কন্যা সন্তান হয়।

ডাক্তার আলামিন সারোয়ার নির্দেশে সিজারিয়ান মায়ের জন্য সব সময় তার দেখভাল করার জন্য একজন নার্স নিয়োজিত রয়েছেন।

​এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ ডা. আলামিন সারোয়ারের এমন মানবিক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা বলছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ সমাজের বিত্তবানদের জন্য অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্ত।

এই মায়ের কথা শুনে রক্তের জন্য এগিয়ে আসেন বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান।

​ডা. আলামিন সারোয়ারের এই পদক্ষেপে শুধু একটি নবজাতকের নিরাপদ পৃথিবীর আলো দেখাই নিশ্চিত হয়নি, বরং সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক নতুন বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

মধুখালীতে কলেজ খোলা, কিন্তু শিক্ষক শূন্য শ্রেণিকক্ষ! মেগচামী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ইউএনও’র

চিকিৎসা সেবায় মানবতার ছোঁয়া: হতদরিদ্র প্রসূতি মায়ের পাশে দাঁড়ালেন ডা. আলামিন সারোয়ার

Update Time : ০৩:২৯:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

গর্ভযন্ত্রণা আর চরম অসহায়ত্ব যখন একটি পরিবারের একমাত্র সম্বল, ঠিক তখনই মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে পাশে দাঁড়ালেন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলামিন সারোয়ার।

স্বামী পরিত্যক্তা এবং অসহায় এক প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশনসহ সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এই কর্মকর্তা।

​জানা গেছে, মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের মাঝিবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র এক তরুণী চুমকির জীবনে নেমে আসে গভীর অন্ধকার।

বিয়ের পর সুখের সংসার তো দূরের কথা, ৩-৪ মাস আগে গর্ভবতী অবস্থায় তাকে ফেলে পালিয়ে যায় স্বামী।
খোঁজ নেয়নি সন্তানের অনাগত ভবিষ্যতেরও। পরিবার বলতে রয়েছে কেবল এক অন্ধ মা। স্বামীহীন, পিতৃহীন এবং অন্ধ মায়ের এই অসহায় তরুণীর গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে এসে দেখা দেয় তীব্র জটিলতা। অর্থাভাবে যেখানে পেটে দু’মুঠো ভাত জোটা দায়, সেখানে উন্নত চিকিৎসা বা সিজারিয়ান অপারেশন তো দূরের কথা।

​অসহায় এই প্রসূতি ও তার অন্ধ মায়ের কান্নায় যখন চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, তখনই খবর পৌঁছায় মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলামিন সারোয়ারের কানে। সংবাদটি পাওয়া মাত্রই তিনি আর চুপ করে বসে থাকেননি। দ্রুত মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

​ডা. আলামিন সারোয়ার ওই অসহায় মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন ও যাবতীয় চিকিৎসাসামগ্রীসহ সকল খরচের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। তার এই সময়োপযোগী ও মহৎ উদ্যোগে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন অসহায় ওই প্রসূতি ও তার অন্ধ মা।
আজ ১০ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রসূতি মায়ের সিজার সিজার হয়।
তার কন্যা সন্তান হয়।

ডাক্তার আলামিন সারোয়ার নির্দেশে সিজারিয়ান মায়ের জন্য সব সময় তার দেখভাল করার জন্য একজন নার্স নিয়োজিত রয়েছেন।

​এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ ডা. আলামিন সারোয়ারের এমন মানবিক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা বলছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ সমাজের বিত্তবানদের জন্য অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্ত।

এই মায়ের কথা শুনে রক্তের জন্য এগিয়ে আসেন বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান।

​ডা. আলামিন সারোয়ারের এই পদক্ষেপে শুধু একটি নবজাতকের নিরাপদ পৃথিবীর আলো দেখাই নিশ্চিত হয়নি, বরং সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক নতুন বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।