ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মধুখালীতে কলেজ খোলা, কিন্তু শিক্ষক শূন্য শ্রেণিকক্ষ! মেগচামী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ইউএনও’র মধুখালীর গোন্দারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত মধুখালীর ‘কবিতা ক্লিনিক’-এ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ: মালিককে ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা মধুখালীতে উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি ও আলিম পরীক্ষায় পাশের হার ৩৫.১৫%, দুই প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ মধুখালীতে উপজেলা যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: বৃক্ষরোপণ,খাবার বিতরণ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি ফরিদপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে অগ্নিকান্ডে ৭টি পাটের গুদাম ভষ্মিভূত, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় দুই কোটি টাকা বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে দিলো না সন্তান! যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার দাফন নিয়ে ভাইবোনদের বিরোধ মধুখালীতে পানির গর্তে পড়ে ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় অবসর ভাতার পরিকল্পনা করছে সরকার – মধুখালীতে হুইপ রুহুল কুদ্দুস দুলু এমপি

ফরিদপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৯২ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি:

ফরিদপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মো. লালন মোল্লা (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাকে পুলিশ প্রহরায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. লালন মোল্লা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর মহল্লার বাসিন্দা। সেখানে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। বাসার পাশের একটি ভবনে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
স্বামীর হাতুড়ির আঘাতে নিহত স্ত্রীর নাম সাজেদা বেগম (৪০)।
মামলার এজাহারসূত্রে জানা গেছে, সাজেদা বেগমের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামে। ২০০৪ সালে সাজেদাকে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। তিনি লালনের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। লালন এর আগে একটি বিয়ে করেন। সেখানে তার ৩৪ বছর বয়সী পিকুল মোল্লা নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সাজেদা-লালন দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না।
মামলার এজাহার সুত্রে আরও জানা যায়,বিয়ের পর থেকেই মাদক গ্রহণের টাকার জন্য সাজেদাকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দিতে বলতেন লালন। কয়েকবার তিনি বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকাও এনে দেন। সর্বশেষ ২০২২ সালের ৯ আগস্ট ৫০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দেন লালন। এই টাকার জন্য কয়েকবার তাকে মারধরও করেন তিনি। তবে টাকা এনে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২৩ আগস্ট ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করেন লালন।
এ ঘটনায় ওই দিনই (২৩ আগস্ট) হত্যাকাণ্ডের শিকার সাজেদার ছোট বোন মাজেদা বেগম (৩৫) বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় যৌতুকের দাবিতে বোনকে হত্যার অভিযোগে লালন মোল্লাকে একমাত্র আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাস। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি লালন মোল্লাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। যৌতুকের প্রবণতা কমাতে এবং অপরাধ করলে যে অবশ্যই সাজা পেতে হবে, এ রায়ের মাধ্যমে সেই বার্তা সমাজে পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর ফলে সমাজে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা কমে আসবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

মধুখালীতে কলেজ খোলা, কিন্তু শিক্ষক শূন্য শ্রেণিকক্ষ! মেগচামী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ইউএনও’র

ফরিদপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Update Time : ০৪:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি:

ফরিদপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মো. লালন মোল্লা (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাকে পুলিশ প্রহরায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. লালন মোল্লা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর মহল্লার বাসিন্দা। সেখানে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। বাসার পাশের একটি ভবনে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
স্বামীর হাতুড়ির আঘাতে নিহত স্ত্রীর নাম সাজেদা বেগম (৪০)।
মামলার এজাহারসূত্রে জানা গেছে, সাজেদা বেগমের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামে। ২০০৪ সালে সাজেদাকে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। তিনি লালনের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। লালন এর আগে একটি বিয়ে করেন। সেখানে তার ৩৪ বছর বয়সী পিকুল মোল্লা নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সাজেদা-লালন দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না।
মামলার এজাহার সুত্রে আরও জানা যায়,বিয়ের পর থেকেই মাদক গ্রহণের টাকার জন্য সাজেদাকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দিতে বলতেন লালন। কয়েকবার তিনি বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকাও এনে দেন। সর্বশেষ ২০২২ সালের ৯ আগস্ট ৫০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দেন লালন। এই টাকার জন্য কয়েকবার তাকে মারধরও করেন তিনি। তবে টাকা এনে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২৩ আগস্ট ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করেন লালন।
এ ঘটনায় ওই দিনই (২৩ আগস্ট) হত্যাকাণ্ডের শিকার সাজেদার ছোট বোন মাজেদা বেগম (৩৫) বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় যৌতুকের দাবিতে বোনকে হত্যার অভিযোগে লালন মোল্লাকে একমাত্র আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাস। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি লালন মোল্লাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। যৌতুকের প্রবণতা কমাতে এবং অপরাধ করলে যে অবশ্যই সাজা পেতে হবে, এ রায়ের মাধ্যমে সেই বার্তা সমাজে পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর ফলে সমাজে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা কমে আসবে।