ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মধুখালীতে কলেজ খোলা, কিন্তু শিক্ষক শূন্য শ্রেণিকক্ষ! মেগচামী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ইউএনও’র মধুখালীর গোন্দারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত মধুখালীর ‘কবিতা ক্লিনিক’-এ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ: মালিককে ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা মধুখালীতে উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি ও আলিম পরীক্ষায় পাশের হার ৩৫.১৫%, দুই প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ মধুখালীতে উপজেলা যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: বৃক্ষরোপণ,খাবার বিতরণ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি ফরিদপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে অগ্নিকান্ডে ৭টি পাটের গুদাম ভষ্মিভূত, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় দুই কোটি টাকা বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে দিলো না সন্তান! যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার দাফন নিয়ে ভাইবোনদের বিরোধ মধুখালীতে পানির গর্তে পড়ে ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় অবসর ভাতার পরিকল্পনা করছে সরকার – মধুখালীতে হুইপ রুহুল কুদ্দুস দুলু এমপি

মধুখালীতে গরুর ঘরের পানি বের করা নিয়ে বিরোধ, ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচা নিহত

ফরিদপুরের মধুখালীতে গরুর ঘরের পানি বের করা ও পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজা শাকিল বিশ্বাসের লাঠির আঘাতে জায়েদুল বিশ্বাস (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন বিশ্বাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জায়েদুল বিশ্বাস ওই এলাকার মৃত বদিয়ার বিশ্বাসের ছোট ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি গরু পালন করতেন। তাঁর স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডুমাইন বিশ্বাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত বদিয়ার বিশ্বাসের তিন ছেলে লিপ্টন বিশ্বাস (৫২), আমুদে বিশ্বাস (৪৮) ও জায়েদুল বিশ্বাস (৪২) একই বাড়িতে বসবাস করতেন। বাড়িতে জায়গা কম থাকায় এবং জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমুদে ও জায়েদুলের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গোয়ালঘরের গোবর ও পানি সরানো নিয়েও কয়েকবার ঝগড়া ও শালিস হয়েছে। শুক্রবার সকালে ঘরের সিড়ি নির্মাণ ও বাড়িতে জমে থাকা পানি বের করা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা মারামারিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে আমুদে বিশ্বাসের ছেলে শাকিল বিশ্বাস (২৫) কাঠের বাটাম দিয়ে চাচা জায়েদুলকে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান জায়েদুল। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহেল রানা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্যা বলেন, তিন ভাই একই বাড়িতে বসবাস করেন। জায়গা-জমি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে কয়েকবার শালিসও হয়েছে। শুক্রবার গরুর ঘরের পানি বের করাসহ নানা বিষয় নিয়ে আবারও ঝামেলা হয়। একপর্যায়ে শাকিলের লাঠির আঘাতে জায়েদুল নিহত হন। তবে শুনেছি নিহত ব্যক্তির হাতে থাকা কোদাল দিয়ে আগে ভাই-ভাতিজাদের উপর উত্তেজিত হয় জায়েদুল।
নিহতের প্রতিবেশী ও গ্রাম পুলিশ আলিপ বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গোয়ালঘরের গোবর ও পানি সরানো নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার এ নিয়ে ঝগড়া শুরু হলে একপর্যায়ে শাকিল কাঠের বাটাম দিয়ে জায়েদুলকে আঘাত করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে মধুখালী থানার ওসি (তদন্ত) মারুফ হাসান রাসেলের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌচ্ছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস এম মাসুদুজ্জামান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ওসি সুকদেব রায় বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় এনেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকায় আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

মধুখালীতে কলেজ খোলা, কিন্তু শিক্ষক শূন্য শ্রেণিকক্ষ! মেগচামী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ইউএনও’র

মধুখালীতে গরুর ঘরের পানি বের করা নিয়ে বিরোধ, ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচা নিহত

Update Time : ১২:২১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরের মধুখালীতে গরুর ঘরের পানি বের করা ও পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজা শাকিল বিশ্বাসের লাঠির আঘাতে জায়েদুল বিশ্বাস (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন বিশ্বাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জায়েদুল বিশ্বাস ওই এলাকার মৃত বদিয়ার বিশ্বাসের ছোট ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি গরু পালন করতেন। তাঁর স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডুমাইন বিশ্বাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত বদিয়ার বিশ্বাসের তিন ছেলে লিপ্টন বিশ্বাস (৫২), আমুদে বিশ্বাস (৪৮) ও জায়েদুল বিশ্বাস (৪২) একই বাড়িতে বসবাস করতেন। বাড়িতে জায়গা কম থাকায় এবং জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমুদে ও জায়েদুলের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গোয়ালঘরের গোবর ও পানি সরানো নিয়েও কয়েকবার ঝগড়া ও শালিস হয়েছে। শুক্রবার সকালে ঘরের সিড়ি নির্মাণ ও বাড়িতে জমে থাকা পানি বের করা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা মারামারিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে আমুদে বিশ্বাসের ছেলে শাকিল বিশ্বাস (২৫) কাঠের বাটাম দিয়ে চাচা জায়েদুলকে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান জায়েদুল। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহেল রানা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্যা বলেন, তিন ভাই একই বাড়িতে বসবাস করেন। জায়গা-জমি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে কয়েকবার শালিসও হয়েছে। শুক্রবার গরুর ঘরের পানি বের করাসহ নানা বিষয় নিয়ে আবারও ঝামেলা হয়। একপর্যায়ে শাকিলের লাঠির আঘাতে জায়েদুল নিহত হন। তবে শুনেছি নিহত ব্যক্তির হাতে থাকা কোদাল দিয়ে আগে ভাই-ভাতিজাদের উপর উত্তেজিত হয় জায়েদুল।
নিহতের প্রতিবেশী ও গ্রাম পুলিশ আলিপ বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গোয়ালঘরের গোবর ও পানি সরানো নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার এ নিয়ে ঝগড়া শুরু হলে একপর্যায়ে শাকিল কাঠের বাটাম দিয়ে জায়েদুলকে আঘাত করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে মধুখালী থানার ওসি (তদন্ত) মারুফ হাসান রাসেলের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌচ্ছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস এম মাসুদুজ্জামান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ওসি সুকদেব রায় বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় এনেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকায় আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।