ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মধুখালীতে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ পরীক্ষা চলছে, ৬৭২ প্রার্থীর মধ্যে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পাবেন ৯০ জন ধলেশ্বরী নদীতে নিখোঁজের ৫ ঘণ্টা পর তরুণীর মরদেহ উদ্ধার শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে: নাহিদ ভারতীয় হাইকমিশনারকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ‘শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে’ মধুখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধা নিহত নবাগত ইউএনও মাসুদুর রহমানের সাথে মধুখালী পূজা উদযাপন ফ্রন্ড এর পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মধুখালীতে নবাগত ইউএনও এর সাথে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময় ফরিদপুরে পৃথক স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহি দুটি বাস পার্শ্ববর্তী খাদে, আহত- ১৫ বোয়ালমারীতে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারির আবেদন ঘিরে জামায়াত নেতার সুপারিশ ভাইরাল জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার

ঝুঁকিতে বামুন্দি বালিয়াকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়: বৃষ্টিতে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা

​ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার বামুন্দি বালিয়াকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ পরিবেশে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা ও টিনশেডের বেহাল দশার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ভেতরে পানি পড়ে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে আতঙ্কের মধ্য দিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের অবকাঠামো অত্যন্ত নাজুক। জানালার কাঠ ভেঙে পড়ে আছে এবং দরজাগুলো প্রায় অস্তিত্বহীন। এ ছাড়া চালের টিনগুলোও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আকাশে মেঘ জমলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে আতঙ্ক ভর করে। সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বাদ দিয়ে নিজেদের বই-খাতা বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, “বৃষ্টি হলে আমরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারি না। ক্লাসের বেঞ্চ ও বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। আমরা এই জরাজীর্ণ ক্লাসরুম দ্রুত মেরামত চাই।”
একই কথা জানিয়ে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গুলশান আরা বলেন, “ভাঙা টিনের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে আমাদের বই-খাতা সব ভিজে যায়। বর্ষার দিনে
ক্লাসে বসার মতো কোনো পরিবেশই থাকে না। এছাড়াও বিদ্যালয়ের একমাত্র টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত আমাদের স্কুলটি সংস্কারের ব্যবস্থা করুক।”​
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস জানান, “দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছি। নানাবিধ সমস্যার কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষগুলো পাঠদানের উপযোগী করে মেরামত ও সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।”
​স্থানীয় অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত এই জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুখালীতে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ পরীক্ষা চলছে, ৬৭২ প্রার্থীর মধ্যে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পাবেন ৯০ জন

ঝুঁকিতে বামুন্দি বালিয়াকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়: বৃষ্টিতে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা

Update Time : ০৩:২৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

​ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার বামুন্দি বালিয়াকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ পরিবেশে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা ও টিনশেডের বেহাল দশার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ভেতরে পানি পড়ে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে আতঙ্কের মধ্য দিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের অবকাঠামো অত্যন্ত নাজুক। জানালার কাঠ ভেঙে পড়ে আছে এবং দরজাগুলো প্রায় অস্তিত্বহীন। এ ছাড়া চালের টিনগুলোও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আকাশে মেঘ জমলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে আতঙ্ক ভর করে। সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বাদ দিয়ে নিজেদের বই-খাতা বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, “বৃষ্টি হলে আমরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারি না। ক্লাসের বেঞ্চ ও বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। আমরা এই জরাজীর্ণ ক্লাসরুম দ্রুত মেরামত চাই।”
একই কথা জানিয়ে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গুলশান আরা বলেন, “ভাঙা টিনের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে আমাদের বই-খাতা সব ভিজে যায়। বর্ষার দিনে
ক্লাসে বসার মতো কোনো পরিবেশই থাকে না। এছাড়াও বিদ্যালয়ের একমাত্র টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত আমাদের স্কুলটি সংস্কারের ব্যবস্থা করুক।”​
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস জানান, “দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছি। নানাবিধ সমস্যার কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষগুলো পাঠদানের উপযোগী করে মেরামত ও সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।”
​স্থানীয় অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত এই জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা।