ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মধুখালীতে কলেজ খোলা, কিন্তু শিক্ষক শূন্য শ্রেণিকক্ষ! মেগচামী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ইউএনও’র মধুখালীর গোন্দারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত মধুখালীর ‘কবিতা ক্লিনিক’-এ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ: মালিককে ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা মধুখালীতে উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি ও আলিম পরীক্ষায় পাশের হার ৩৫.১৫%, দুই প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ মধুখালীতে উপজেলা যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: বৃক্ষরোপণ,খাবার বিতরণ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি ফরিদপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে অগ্নিকান্ডে ৭টি পাটের গুদাম ভষ্মিভূত, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় দুই কোটি টাকা বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে দিলো না সন্তান! যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার দাফন নিয়ে ভাইবোনদের বিরোধ মধুখালীতে পানির গর্তে পড়ে ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় অবসর ভাতার পরিকল্পনা করছে সরকার – মধুখালীতে হুইপ রুহুল কুদ্দুস দুলু এমপি

ঝুঁকিতে বামুন্দি বালিয়াকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়: বৃষ্টিতে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা

​ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার বামুন্দি বালিয়াকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ পরিবেশে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা ও টিনশেডের বেহাল দশার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ভেতরে পানি পড়ে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে আতঙ্কের মধ্য দিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের অবকাঠামো অত্যন্ত নাজুক। জানালার কাঠ ভেঙে পড়ে আছে এবং দরজাগুলো প্রায় অস্তিত্বহীন। এ ছাড়া চালের টিনগুলোও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আকাশে মেঘ জমলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে আতঙ্ক ভর করে। সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বাদ দিয়ে নিজেদের বই-খাতা বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, “বৃষ্টি হলে আমরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারি না। ক্লাসের বেঞ্চ ও বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। আমরা এই জরাজীর্ণ ক্লাসরুম দ্রুত মেরামত চাই।”
একই কথা জানিয়ে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গুলশান আরা বলেন, “ভাঙা টিনের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে আমাদের বই-খাতা সব ভিজে যায়। বর্ষার দিনে
ক্লাসে বসার মতো কোনো পরিবেশই থাকে না। এছাড়াও বিদ্যালয়ের একমাত্র টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত আমাদের স্কুলটি সংস্কারের ব্যবস্থা করুক।”​
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস জানান, “দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছি। নানাবিধ সমস্যার কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষগুলো পাঠদানের উপযোগী করে মেরামত ও সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।”
​স্থানীয় অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত এই জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

মধুখালীতে কলেজ খোলা, কিন্তু শিক্ষক শূন্য শ্রেণিকক্ষ! মেগচামী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ইউএনও’র

ঝুঁকিতে বামুন্দি বালিয়াকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়: বৃষ্টিতে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা

Update Time : ০৩:২৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

​ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার বামুন্দি বালিয়াকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ পরিবেশে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা ও টিনশেডের বেহাল দশার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ভেতরে পানি পড়ে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে আতঙ্কের মধ্য দিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের অবকাঠামো অত্যন্ত নাজুক। জানালার কাঠ ভেঙে পড়ে আছে এবং দরজাগুলো প্রায় অস্তিত্বহীন। এ ছাড়া চালের টিনগুলোও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আকাশে মেঘ জমলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে আতঙ্ক ভর করে। সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বাদ দিয়ে নিজেদের বই-খাতা বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, “বৃষ্টি হলে আমরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারি না। ক্লাসের বেঞ্চ ও বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। আমরা এই জরাজীর্ণ ক্লাসরুম দ্রুত মেরামত চাই।”
একই কথা জানিয়ে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গুলশান আরা বলেন, “ভাঙা টিনের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে আমাদের বই-খাতা সব ভিজে যায়। বর্ষার দিনে
ক্লাসে বসার মতো কোনো পরিবেশই থাকে না। এছাড়াও বিদ্যালয়ের একমাত্র টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত আমাদের স্কুলটি সংস্কারের ব্যবস্থা করুক।”​
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস জানান, “দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছি। নানাবিধ সমস্যার কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষগুলো পাঠদানের উপযোগী করে মেরামত ও সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।”
​স্থানীয় অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত এই জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা।