ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৩ জনের মৃত্যু ১৪ বছর পর রায় ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড আ’লীগ নেতা ও সরকারী কর্মকর্তা মিলে ১২ লাখ টাকা গিলে খেলেন বোয়ালমারীতে অবৈধ ভাবে স্থাপনা নির্মাণ ও বরাদ্দ দিয়ে ১২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আইনজীবী হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত সদরপুরে হাতির আক্রমণে ১০ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু, মাহুত আটক চার বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে যা বললেন জেনিফার লোপেজ ঢাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রির সময় হঠাৎ দেয়াল ধসে নিহত ২ মধুখালীতে মৎস্য আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, অভিযানে নেতৃত্ব দিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফরিদপুর চিনিকলে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন পূবালী ব্যাংক পিএলসি মধুখালী শাখার আয়োজনে ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ Time View
ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিয়ের তিন বছরের মাথায় দাবি করা যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে (২৫) গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে স্বামী মনোজিত সরকারের বিরুদ্ধে। প্রথমদিকে হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টাও করা হয়।তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে হত্যার সত্যতা। দীর্ঘ সাত বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত স্বামী মনোজিত সরকারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আসামিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জরিমানার পুরো অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত মনোজিত সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই মামলায় অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় মনোজিতের ছয় স্বজন বিপুল সরকার, সরজিৎ সরকার, লিটন সরকার, বিপ্লব সরকার, সবুজ সরকার ও দীপালী সরকারকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের শুরুতে মধুখালী উপজেলার জারজননগর গ্রামের রঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে রমা বিশ্বাসের সঙ্গে একই উপজেলার কলাইকান্দা গ্রামের চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে মনোজিত সরকারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে চার লাখ টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছিল। এরপরও বিভিন্ন সময়ে আরো এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হননি মনোজিত।

২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল তিনি আরো এক লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০ এপ্রিল বিকেলে স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন এবং রমার পরিবারকে জানান, পেটের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে রমা আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়, এটি আত্মহত্যা নয়, শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ড।

এরপর ২০১৮ সালের ১০ মে রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস বাদী হয়ে মনোজিত সরকার ও তার ছয় স্বজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে হত্যা এবং নির্যাতনের অভিযোগে মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে মধুখালী থানার তৎকালীন এসআই মাহাবুল করিম ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস এজাহারে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সময় প্রায় এক লাখ টাকা অতিরিক্ত দেওয়া হয়। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ঘটনার দিন সকালে আবারও এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মেয়েকে হত্যা করা হয়। পরে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে প্রচার করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুক এখনো সমাজের ভয়াবহ ব্যাধি। তিনি বলেন, ‘যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন বা হত্যা করলে কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৩ জনের মৃত্যু

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

Update Time : ০৩:৫১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিয়ের তিন বছরের মাথায় দাবি করা যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে (২৫) গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে স্বামী মনোজিত সরকারের বিরুদ্ধে। প্রথমদিকে হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টাও করা হয়।তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে হত্যার সত্যতা। দীর্ঘ সাত বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত স্বামী মনোজিত সরকারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আসামিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জরিমানার পুরো অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত মনোজিত সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই মামলায় অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় মনোজিতের ছয় স্বজন বিপুল সরকার, সরজিৎ সরকার, লিটন সরকার, বিপ্লব সরকার, সবুজ সরকার ও দীপালী সরকারকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের শুরুতে মধুখালী উপজেলার জারজননগর গ্রামের রঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে রমা বিশ্বাসের সঙ্গে একই উপজেলার কলাইকান্দা গ্রামের চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে মনোজিত সরকারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে চার লাখ টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছিল। এরপরও বিভিন্ন সময়ে আরো এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হননি মনোজিত।

২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল তিনি আরো এক লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০ এপ্রিল বিকেলে স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন এবং রমার পরিবারকে জানান, পেটের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে রমা আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়, এটি আত্মহত্যা নয়, শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ড।

এরপর ২০১৮ সালের ১০ মে রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস বাদী হয়ে মনোজিত সরকার ও তার ছয় স্বজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে হত্যা এবং নির্যাতনের অভিযোগে মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে মধুখালী থানার তৎকালীন এসআই মাহাবুল করিম ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস এজাহারে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সময় প্রায় এক লাখ টাকা অতিরিক্ত দেওয়া হয়। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ঘটনার দিন সকালে আবারও এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মেয়েকে হত্যা করা হয়। পরে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে প্রচার করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুক এখনো সমাজের ভয়াবহ ব্যাধি। তিনি বলেন, ‘যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন বা হত্যা করলে কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।’